অস্ট্রেলিয়ায় শস্যপুষ্ট গরুর মাংসের (গ্রেইন-ফিড বিফ) উৎপাদন দ্রুত বাড়ছে। অন্যদিকে গবাদিপশুর সংখ্যা কমে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে গরুর মাংসের রফতানি কমেছে। এ পরিস্থিতিতে এশিয়ার বাজারে রফতানিতে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। খবর রয়টার্স।
অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস অঙ্গরাজ্যের গন্ডামেইন এলাকায় একটি খামারে ছয় হাজার ব্ল্যাক অ্যাঙ্গাস গরু পালন হচ্ছে। চূর্ণ বার্লি, সাইলেজ, তুলাবীজ ও মোলাসেস খাইয়ে গবাদিপশুগুলোকে রফতানিযোগ্য মাংস উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত করা হয়।
প্রায় ৯০ দিন খামারে থাকার পর গরুগুলোর ওজন বাড়ে প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত। গড়ে প্রতিটির ওজন দাঁড়ায় প্রায় ৬০০ কেজি। আন্তর্জাতিক বাজারে শস্যজাত খাদ্যে পুষ্ট মাংসের চাহিদা বাড়ায় খামারটির উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে।
গন্ডামেইনের খামারটি পরিচালনা করেন টেস হার্বার্ট ও তার পরিবার। তিনি বলেন, ‘আমাদের উৎপাদিত মাংসের চাহিদা সবসময়ই থাকে। সরবরাহ চেইনের চাহিদা বাড়লে আমরা উৎপাদনও বাড়াই। এর একমাত্র উপায় হলো খামারের সক্ষমতা বাড়ানো। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আমাদের খামারের ধারণক্ষমতা ১২ হাজার গবাদিপশুতে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।’
অস্ট্রেলিয়ার পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্যানুযায়ী, দেশটিতে শস্যনির্ভর মোটাতাজা করার খামারগুলোয় (ফিডলট) জুন শেষে গবাদিপশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ১৬ লাখে। পাঁচ বছর আগে এ সংখ্যা ছিল ১০ লাখ। ২০২৭ সালের মধ্যে এটি পৌঁছতে পারে ২০ লাখে। বর্তমানে মোট গবাদিপশুর প্রায় ৪০ শতাংশ ফিডলটে মোটাতাজা করা হয়। ভবিষ্যতে এ হার অর্ধেকের কাছাকাছি পৌঁছতে পারে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘমেয়াদি খরার কারণে গবাদিপশুর সংখ্যা কমেছে। দেশটিতে গত ১ নভেম্বর ফিডলটে থাকা গবাদিপশুর সংখ্যা দাঁড়ায় ১ কোটি ১৭ লাখে। গবাদিপশুর এ সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ২ লাখ ৬০ হাজার কম। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) তথ্যানুযায়ী চলতি ও আগামী বছর দেশে গরুর মাংস উৎপাদন কমবে।
অস্ট্রেলিয়ান লট ফিডারস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ও টেইস অস্ট্রেলিয়ার কর্মকর্তা গ্রান্ট গ্যারি বলেন, ‘শস্যজাত খাদ্য খাইয়ে মোটাতাজা করা গরুর মাংসের চাহিদা বাড়ায় উৎপাদনও বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন কমে যাওয়ায় রফতানি গন্তব্য আরো সম্প্রসারণ হয়েছে।’
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) অস্ট্রেলিয়ার শস্য-পুষ্ট গবাদিপশুর মাংস রফতানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ২৪ হাজার ৪২১ টনে। ২০২০ সালের একই সময় রফতানির আকার ছিল ২ লাখ ২৪ হাজার ২৩০ টন। সাধারণত জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনে এ ধরনের মাংসের বড় বাজার রয়েছে।
গত কয়েক বছরে এসব বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের রফতানি কমেছে। এছাড়া সাম্প্রতিক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে শুল্কবিবাদের সুযোগ নিয়ে চীনে রফতানি বাড়িয়েছে অস্ট্রেলিয়া।